নতজানু নয়, নতোন্নত

রাজা দেবরায়


হে বীরসিংহের সিংহ, তুমি করুণার সিন্ধু নও,

তুমি করুণা-ব্যবচ্ছেদী, শাণিত যুক্তির খড়্গ!

পরাশর-বচন হাতে লইয়া দাঁড়াইলে

ডালহৌসির দরবারে, কান্না লইয়া নহে-

প্রমাণ লইয়া।


লোকে বলে দয়ার সাগর,

আমি বলি- দহনের সাগর,

যে দহনে পুড়িয়াছে শতাব্দীর শাস্ত্রীয় জড়তা।

তুমি বিধবার অশ্রু মুছ নাই,

অশ্রুর কারণ মুছিয়াছ,

এইখানে তুমি সমাজ-সংস্কারক নহে, সমাজ-শল্য-চিকিৎসক।


পঞ্চশত মুদ্রার প্রাসাদ-সম চাকুরী!

ইয়ং সাহেবের এক ইঙ্গিতে তাহা তৃণবৎ ত্যাগ,

হে বিদ্যা! হে সাগর! তুমি শিখাইলে-

উদরপূর্তির চেয়ে মেরুদণ্ডের দাম অধিক।

যে জাতি চাকুরী বাঁচাইতে মস্তক নোয়ায়,

সে জাতি কখনও পাঠ্যপুস্তক লেখে না,

সে জাতি পাঠ্যপুস্তক মুখস্থ করে।


তোমার বর্ণপরিচয় শিশু-পাঠ্য নহে,

উহা জাতির বর্ণ-পরিচয়।

প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ- বর্ণমালা নহে,

উহা আত্মমর্যাদার ক্রম-পাঠ।


তাই তুমি দয়ার অবতার নহে,

তুমি দৃঢ়তার অবতার।

কোমলতা তোমার কৌশল ছিলো,

কঠোরতা তোমার দর্শন।


তুমি প্রমাণ করিলে-

ক্ষমতার সহিত সন্ধি করিতে হইলে,

ভিক্ষাপাত্র নহে, যোগ্যতার অস্ত্র লাগে।

ইহাই সম্ভ্রম আদায়ের দর্শন,

ইহাই Strategic Autonomy!