প্রসূতির মৃত্যু ঘিরে কৈলাশহর জেলা হাসপাতালে বিক্ষোভ, পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ
কৈলাশহর, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: কৈলাশহর ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে ২৪ বছর বয়সী এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃতার নাম নূরজাহান বেগম। পরিবারের অভিযোগ, প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
ঘটনার খবর পেয়ে কৈলাশহর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিরজিৎ সিনহার নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে পৌঁছায়। তাঁরা হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ রোহন পালকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান এবং হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিধায়ক বিরজিৎ সিনহার অভিযোগ, ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসা পরিষেবা বেহাল। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পরিকাঠামোর অভাবের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র রোগীরা সমস্যায় পড়ছেন। তিনি প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে, হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ রোহন পাল জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কী কারণে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জেলা হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও এখানে অনেক ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ নেই। গুরুতর অবস্থায় বহু রোগীকে ধর্মনগর কিংবা আগরতলার হাসপাতালে রেফার করা হয়। ফলে চিকিৎসার পাশাপাশি যাতায়াতের অতিরিক্ত চাপও বহন করতে হয় দরিদ্র পরিবারগুলিকে।
প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা ও পরিকাঠামো। স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য দ্রুত চিকিৎসক, ওষুধ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।