ব্ল্যাক স্পট, বিশ্বাস আর বেঁচে থাকার লড়াই

     নিয়তির আঁধারে নিমজ্জিত সড়ক 

           সুদীপ নাথ


  সড়ক দুর্ঘটনা এই সময়ে এক গভীর সামাজিক সংকট। এইসব মৃত্যুর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। তাই সড়ক সুরক্ষা আজ সময়ের দাবি। সড়ক দুর্ঘটনার ফলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মৃত্যু আর গুরুতর আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস, নিজের ও পরিবারের মানসিক দুঃখ—সব মিলিয়ে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বোঝা। সড়ক সুরক্ষা বলতে বোঝায় এমন সব নীতিমালা, ব্যবস্থা ও আচরণ, যা সড়কে চলাচলের সময় যাত্রী, চালক ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এটি শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তথা ট্রাফিক দপ্তরের দায়িত্ব নয়, বরং সরকারের পরিকল্পনা, অবকাঠামো, নাগরিক সচেতনতা এবং চালকদের শৃঙ্খলার ওপরও নির্ভর করে। ভুলে গেলে চলবে না যে, জনগণই সমাজের মূল চালিকা শক্তি।

গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে নেওয়া মানে শুধু গন্তব্যের দিকে এগোনো নয়, বরং নিয়তির সঙ্গেও একটা অনিশ্চিত বোঝাপড়া। প্রতিদিন হাজারো মানুষ একেকটা রাস্তা পার হয়ে যায়, কেউ বাড়ি ফেরে, কেউ আর ফেরে না, কেউ যায় হাসপাতালে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে “ব্ল্যাক স্পট” একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। কিছু রাস্তা আছে যেগুলোকে আমরা বলি “ব্ল্যাক স্পট” অর্থাৎ অদেখা স্থান। এছাড়াও চলমান অথবা থেমে থাকা গাড়ি থেকে সৃষ্ট আড়ালগুলো আরো ভয়ানক ব্ল্যাক স্পট। কেন এই স্থানগুলো এত বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ ? শুধু কি ভৌত সমস্যা? নাকি এর পেছনে আছে আমাদের অদৃশ্য এক বিশ্বাসব্যবস্থা বা কাল্পনিক জগত বা কুসংস্কার ? 

     একজন ড্রাইভারের চোখে ব্ল্যাক স্পট মানে শুধু রাস্তার বাঁক নয়, বরং জীবনের একটা অনিশ্চিত মায়া। দূর থেকে দেখা যায় না সেই হঠাৎ উঠে আসা গর্ত, অপ্রস্তুত ট্রাফিক বা হঠাৎই রাস্তা দখল করে বসে থাকা বাজার, হাট, দোকান। ত্রিপুরার বসতি এলাকায়, এমন কোনও মোড় নেই, যেখানে রাস্তা দখল করে স্থায়ি-অস্থায়ি দোকান নেই। দেশের অনেক মহাসড়কে এইসব ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি। এখানেই প্রশ্ন উঠে আসে, কি কি ভুলের কারণে এত মৃত্যু এত যাতনা ? নাকি চালকের মনে গেঁথে থাকে সুগভীর অনেক কিছুই। হয়তো সে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, এইসব কিছু কিছু স্থান “অশুভ”, “অভিশপ্ত”, কিংবা নিয়তির এক খেয়ালি খেলা। এই বিশ্বাস থেকেই জন্ম নেয় মানত, মানষি, মাদুলি, জ্যোতিষির পাথরের গল্প আর কল্পনা।

নিয়তিবাদে আক্রান্ত চালক, মালিক, পথচারী আর যাত্রীরা মনে করে, ঐসব কাল্পনিক সুরক্ষা থাকলে দুর্ঘটনা তাদের ছুঁতে পারবে না। ফলে, চালকেরা গাড়ি চালানোর সময় গতি নিয়ন্ত্রণে রাখে না। তারা নিয়ম না মেনে ওভারটেক করে। তারা সিটবেল্ট বা হেলমেট ব্যবহার করে না। পিতৃদেব নাবালকদের হাতে মোটর সাইকেলের চাবি তুলে দেয়। তারা সাবধান না হয়ে আত্মবিশ্বাসে ডুবে যায়। এইসব মনোভাবই বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে পা বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করে, কারণ এটি বাস্তবতাকে অস্বীকার করে। সড়ক সুরক্ষায় সচেতনতা, নিয়ম মানা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির বিকল্প নেই। তাবিজ-কবজ জীবন রক্ষা করতে পারে না যদি চালক, মালিক, পথচারী আর যাত্রীরা নিজেই অসাবধান হয়।

     তবে ব্ল্যাক স্পট শুধুমাত্র দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান-ভিত্তিক চিহ্নিত এলাকা নয়। এটি এমন স্থানও হতে পারে যা চালকের দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকে, যেখানে সামনে কী আছে, তা চালক দেখতে পায় না। একে বলা হয় \\\"দৃষ্টিসীমাহীন ব্ল্যাক স্পট\\\" বা ব্লাইন্ড স্পট। যেমন, হঠাৎ বাঁক বা উঁচু ঢালের কারণে সামনের রাস্তাটি দেখা যায় না। বড় গাড়ির আড়ালে ছোট যানবাহন বা পথচারী অদৃশ্য হয়ে যায়। পার্ক করা ট্রাক বা বাসের পাশে হঠাৎ করে বাইক বা রিকশার চলে আসা। এই ধরনের স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি খুব বেশি, কারণ চালক পরিস্থিতি বুঝে এক লহমায় প্রতিক্রিয়া করতে পারে না।

     এই সমস্যা মোকাবেলার কিছু উপায় হচ্চে, মোড় বা বাঁকে কনভেক্স মিরর বসানো। সুস্পষ্ট সাইনবোর্ড দিয়ে আগেই সতর্কীকরণ। অন্ধ মোড়ে হর্ন ব্যবহারের নির্দেশনা। ঐসব স্থানে বৈধ বা অবৈধ পার্কিং বন্ধ রাখা। ঝোপ-জঙ্গল বা বড় বিলবোর্ড অপসারণ করা। টার্নিংএ যেকোন যানবাহন দাঁড়ানো বন্ধ করা। টার্নিং পয়েন্ট আর যত্রতত্র, যখন তখন হঠাত্ত দাঁড়ালে চালককে তৎক্ষণাৎ, স্পটে সবার সামনে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা অন্তত আধ ঘন্টা। অটো আর টমটমের সব রকম দৌরাত্ব বন্ধ করতে পারলেই, ট্রাফিকের অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এই জন্য অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইন পাশ করা দরকার। নাহলে, কাজের কাজ কিছুই হবে না। রাস্তায় হাজারো বিশেষ পেট্রোলিংএর ব্যবস্থা করলেও যান দুর্ঘটনা একটুকুও কমেনি।

      প্রশ্ন উঠে রাস্তার বাস্তব পরিস্থিতি ও নিয়তিবাদ নিয়ে। প্রশ্ন উঠে, যান দুর্ঘটনায় কমবেশি ট্রমা আর মৃত্যু কি পূর্বনির্ধারিত ? নিয়তিবাদীরা মনে করে, মানুষের জীবনে যা ঘটার তা ঘটবেই। অনেক চালক বলে, “ভাই, ওই মোড়ে ঐ যে গাড়িটার ড্রাইভার মারা গিয়েছে, সে নিশ্চই মানত করেনি, তাই এই অবস্থা। আমরা মানত করেছিলাম, তাই বেঁচে গেছি।” এখানেই উঠে একটা কোটি টাকার প্রশ্ন, মানত না করলে কি দুর্ঘটনা ঘটতো, নাকি, সতর্কতা ও নিয়ম না মানার জন্যই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ধরনের বিশ্বাস প্রায়শই চালকদের মনে আত্মতুষ্টি তৈরি করে। তারা ভাবে, “আমার গাড়িতে মানষির পাথর আছে”, “আমি পাঁচ শনিবার উপোস করেছি”, কিংবা “মাদুলি গায়ে আছে, তাই কিছু হবে না”। ফলত, অনেক সময় তারা বাস্তব জ্ঞানচর্চার থেকে সরে এসে, অদৃশ্য আত্মবিশ্বাসে ভরসা করে, যা ভয়ঙ্কর বিপদকে আরও ত্বরাহ্নিত করে।

     আজকের আধুনিক সময়েও অধিকাংশ ড্রাইভাররাই গাড়ির সামনে নিজেদের ধর্মের পবিত্র কোনো চিহ্ন ঝুলিয়ে রাখে। কেউ তাবিজ বাঁধে, কেউ লোহা, তামার আঙটি পড়ে। তাদের বিশ্বাস, এসব অশুভ শক্তি ঠেকাতে পারে। কেউবা আবার জ্যোতিষের উপদেশে রত্ন, পাথর, নীলা, পোখরাজ, প্রবাল, কিংবা ক্যাটস আই আঙ্গুলে লাগায়। ড্রাইভার মহলে একটি প্রচলিত ধারণা আছে, “যার কুণ্ডলীতে রাহুর দোষ আছে, তার গাড়িতে দুর্ঘটনা হবেই। একমাত্র রত্নপাথরই পারে সেটা ঠেকাতে।” অনেকে বিশেষ রত্নের জন্য অনেক টাকা খরচ করে, কিন্তু রাস্তার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করে না, কিংবা গাড়ির ব্র্যাক ঠিক রাখে না। এইখানেই উদয় হয়, এক গভীর সাংস্কৃতিক সংকটের প্রশ্ন, যেখানে বাস্তব, বিজ্ঞানসম্মত, কার্যকরি সতর্কতার চেয়ে, প্রতীকী সুরক্ষার উপর নির্ভরতা বেশি প্রাধান্য পায়। 

অনেক চালক দুর্ঘটনার কবল থেকে বেঁচে গেলে “মানত”এর অঙ্গিকার পালন করে। তারা কোনোও মন্দিরে, দরগায়, বা গির্জায় গিয়ে, বলি, নারকেল ফাটানো, বাতি দেওয়া, বা গরিবদের খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতির খেলাপ করে না।বিপদনাশিনী দেবীকে পান উৎসর্গ করা বাঙলার ঘরে ঘরে প্রচলিত। মানষিও দেওয়া হয়, অর্থাৎ কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও প্রতীক, যেমন একটি তামার আংটি বা রক্তচন্দনের পুঁতি ইত্যাদি যানবাহনে স্থাপন করা।

      এটি এক ধরনের মানসিক সুরক্ষা, যেটি চালকের মনোবল চাঙ্গা করে দেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক চালক, একে বাস্তব সুরক্ষার বিকল্প ভাবে, যা তাকে অতিমাত্রায় নির্ভয় করে তোলে। যেমন, এক ট্রাকচালক তাঁর স্টিয়ারিংয়ের পাশে বড় করে লিখে রেখেছে, “আল্লাহ ভরসা।” অথচ তাঁর ট্রাকের হেডলাইট নষ্ট, ব্রেক, হর্ন অকার্যকর। এই সংস্কৃতি শুধুমাত্র চালকদের মধ্যেই নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরেই ওতপ্রোত ভাবে গেঁথে আছে। একদিকে প্রশাসন ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করে রোড সাইন বসায়, সিসিটিভি লাগায়, অন্যদিকে সেই রাস্তার পাশেই দেখা যায় একফালি করে বাঁধা লাল-হলুদ সুতো বা নারকেল, যেসব দেখে মনে হয়, নিয়তির বিরুদ্ধে মানুষ বড্ড নিরুপায়। 

      মানুষ কুসংস্কারে বিশ্বাস করবে, এটা তার অধিকার। কিন্তু সেই বিশ্বাস যদি বাস্তবতার বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়, তবে সেটি বিপজ্জনক। রাস্তার পাশে ধর্মীয় প্রতীক থাকে থাকুক, কিনতু সবার আগে থাকবে, সুস্পষ্ট নির্দেশনা, আলো আর  বিপদসংকেত চিহ্ন। যুগের দাবি মেনে, চালকদের মধ্যে এমন সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার, যেখানে বোঝানো হবে, মাদুলির চেয়ে হেলমেট, পাথরের চেয়ে ভালো ব্রেক, হর্ন অনেক বেশি জরুরি। টার্নিং পয়েন্টে পৌছানোর আগেভাগেই ফলস হর্ন বাজানো, টার্নিং সিগন্যাল চালু করা, ডাউন নামার সময় বিপরীত দিকের আপ-এ উঠে আসছে যে যে যানবাহন, তাদের সুবিধার জন্য নিজের গাড়ি থামানো ইত্যাদি হরেক নিয়ম কানুন। ট্রাফিক দপ্তরের এত এত মিটিং মিছিল, স্কুলসভা, পথসভা, হলসভা, জনসভা, বক্তৃতা, মাইকে ঘোষণা, ছবি আঁকা প্রতিযগিতা, পোষ্টারিং ইত্যদি সমস্তকিছুই কেন কাজে লাগেনি তা নিয়ে আমি প্রশ্ন ছুঁড়তে চাই। আমার মত অনেকেই দুই যুগ ধরে এই বিষয়ে লাগাতার অধ্যবসায়ের সঙ্গে অধ্যয়ন, রিসার্চ এবং লেখালেখি করে যাচ্ছে, তাদের কাউকে কি নীতি নির্ধারনের কনফারেন্সগুলোতে কখনই আমন্ত্রণ জানানো হয়, তাদের রিসার্চ পেপারের উপর প্রতিবেদন পেশ করতে ? 

বিশ্বাস আমাদের মানসিক শক্তি দেয়, ঠিকই। কিন্তু সেই শক্তিকে যদি আমরা ভুলভাবে ব্যবহার করি, তবে তা আমাদের দুর্বল করে তোলে। একজন চালক যখন রাতে, ব্ল্যাক স্পট পেরিয়ে যাচ্ছে, তখন তার সামনে থাকা আলো, সতর্কতা, নিয়মজ্ঞান, এবং নিয়ন্ত্রণই তাঁর প্রকৃত সুরক্ষা। পাথর, আঙটি, মানত, সবই হোক মনোবল গড়ার একটি উপায়, কিন্তু তা যেন বাস্তব দায়িত্ব এড়ানোর অজুহাত না হয়। গাড়ির স্টিয়ারিং যেমন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তেমনি জীবনের নিয়তির স্টিয়ারিংটিও নিজের হাতেই নিতে হয়।

      এদিকে অদক্ষ, অপরিণত, অতি চালাক, মানসিক ভারসাম্যহীন, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও অশিক্ষিতদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া বন্ধ না করলে দুর্ঘটনা কমবে না কোনোদিনই। আর এর জন্য মুখ্যত দায়ী পরিবহন দপ্তর। অথচ দুর্ঘটনার মূখ্য কারণ হিসেবে গতিকেই প্রাধান্য দেয় পণ্ডিতেরা। এরা দ্রুতগতির অন্তর্নিহিত কারণের খোঁজ পায়না। এরা জানেই না যে, ইতিমধ্যেই লাইসেন্স পেতে মাধ্যমিক পাশ হতে হয় ভিন রাজ্যে। তাই লাইসেন্স প্রদানের বয়সের সীমারেখা পঁচিশের মধ্যে বেঁধে দেয়া হোক আইন তৈরি করে। আর আইন তৈরি করে, পরিবহণ দপ্তরের অধীনে এমন এক বা একাধিক স্থায়ী মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হোক, যাতে অন্তত একজন করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী ও বুদ্ধিজীবী থাকবে ফিটনেস পরীক্ষার জন্য। এখন একজন সদ্য পাশ করা এমবিবিএস ডাক্তারও ফিটনেস সার্টিফিকেট দিতে পারে। এসব বলছি এই কারণে যে, দিজ্ঞজ নীতি নির্ধারকেরা কোনমতেই এই মৃত্যু মিছিলের হ্রাস টেনে ধরতে যে একেবারেই অক্ষম, তা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাছে। অন্যদিকে অসংখ্য লেখক, বুদ্ধিজীবী, পরজীবী, সবজান্তা, ভোগী, জ্ঞানদাতারা স্যোশাল মিডিয়ায় দুঃখ প্রকাশ আর সরকারকে দোষারোপ করে, নিয়তিবাদের ঘেরাটোপে আটকে থেকে একে একে পথদুর্ঘটনায় বেঘোরে প্রাণ প্রণিপাত করছে। এ যেন ঠিক সেই বনের রাজা সিংহ আর তার রাজ্যের সমস্ত পশুপাখির মতই একটা অলিখিত মায়ার খেলা চলছেই চলছে নিরবিচ্ছিন্ন গতিতে, যার আদি আছে কিন্ত অন্ত নেই, অনন্ত। এমন একটা নিদারুণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেন “আগে কেবা প্রাণ করিবেক দান”, তারই অপেক্ষায় আছি আমরা সকলে। এমতাবস্থায় মুখ দিয়ে অনেক সময়, বাজে কথা বেড়িয়ে যায়, মাফ করবেন। তবুও যদি টনক নড়ে, আর কিছু প্রাণও যদি বাঁচে।


     নিয়তিবাদী চালকেরা, যারা দুর্ঘটনার কবলে পড়েও, মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে আসে, তারা কিনতু জীবনে একবারই যান দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। কথায় বলে ঠ্যালার নাম বাবাজী, যাকে ইংরাজিতে বলে, নেসাসিটি ইজ দা ল অফ লাইফ। একবার ভাল মত গুঁতো খেলেই, ঐসব নিয়তি-টিয়তি সব মন থেকে পালিয়ে কোথায় যায়, তার ঠিক-ঠিকানা নেই। সড়ক সুরক্ষা কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়—এটি আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। নিয়ম না মানলে তাবিজ, কবচ, মানত কিংবা নিয়তি, এসব কোনো কিছুই আমাদের রক্ষা করতে পারে না, পারবে না। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চাই সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং বাস্তবভিত্তিক বিজ্ঞান সম্মত পদক্ষেপ। আমরা যদি নিয়তিবাদ ত্যাগ করে বিজ্ঞান, নীতি ও শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিই, তবেই সম্ভব হবে একটি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।


লেখক পরিচিতি : লেখক সুদীপ নাথ একজন মুক্ত গবেষক ও বুদ্ধিজীবী। দীর্ঘদিন ধরে মনস্তত্ত্ব, সমাজ, আইন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও জনজীবনের নানা বিষয় নিয়ে লেখালেখি করছেন। তাঁর নিবন্ধ আন্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক পরিসরে পাঠকের আগ্রহ ও স্বীকৃতি পেয়েছে। কঠিন ও জটিল বিষয়কে সহজ, সরল ও বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তথ্যনিষ্ঠ বিশ্লেষণের সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় তাঁর লেখায় বিশেষভাবে লক্ষণীয় l