হৃদয়কে বোঝার বিজ্ঞান
রাজা দেবরায়
WHO-এর ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর ২ কোটির বেশি মানুষ মারা যায় হৃদরোগে, যার ৮৫ শতাংশই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে। আমাদের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয় হৃদরোগে এবং ইউরোপীয়দের তুলনায় আমাদের হার্ট অ্যাটাক হয় গড়ে আট থেকে দশ বছর আগে।
হৃদয় ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম ওজনের একটি পাম্প। এটি দিনে প্রায় এক লক্ষ বার স্পন্দিত হয় এবং প্রায় সাড়ে সাত হাজার লিটার রক্ত পাম্প করে। এই পাম্পের নিজেরও রক্তের প্রয়োজন হয় যা সে পায় করোনারি ধমনীর মাধ্যমে। হার্ট অ্যাটাকের বিজ্ঞানসম্মত নাম Myocardial Infarction। এর মূল তত্ত্ব হলো Atherosclerosis। ছোটোবেলা থেকেই আমাদের ধমনীর ভেতরের দেওয়ালে LDL কোলেস্টেরল জমতে শুরু করে, যাকে Plaque বলা হয়। দীর্ঘ বিশ-ত্রিশ বছর ধরে এটি বাড়তে থাকে। একসময় এই Plaque ফেটে যায়। শরীর তখন এটিকে ক্ষত ভেবে সেখানে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে দেয়, যাকে Thrombus বলে। এই জমাট বাঁধা রক্ত দশ থেকে পনেরো মিনিটের মধ্যে করোনারি ধমনী পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে হৃদপেশীর সেই অংশে অক্সিজেন যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং পেশী মরতে শুরু করে। এটাই হার্ট অ্যাটাক। তাই হার্ট অ্যাটাকে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ, যত দেরি হবে তত বেশি পেশীর মৃত্যু হবে।
কেনো আমাদের ঝুঁকি বেশি, তার একটি বিখ্যাত ব্যাখ্যা হলো- Thin Fat Indian তত্ত্ব। Yajnik ও Yudkin-এর দেওয়া এই তত্ত্ব অনুযায়ী আমরা বাইরে থেকে রোগা হলেও ভেতরে মোটা। আমাদের শরীরে Visceral Fat বা পেটের ভেতরের চর্বি বেশি থাকে। এই চর্বি থেকে প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিক বের হয় যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ডায়াবেটিস এবং দ্রুত Atherosclerosis তৈরি করে। এর সঙ্গে যোগ হয় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান এবং Lp(a) নামক একটি বংশগত কোলেস্টেরল যা সাধারণ লিপিড টেস্টে ধরা পড়ে না কিন্তু আমাদের মধ্যে বেশি থাকে।
বিজ্ঞান বলছে- হৃদরোগ আশি শতাংশ ক্ষেত্রে প্রতিরোধযোগ্য এবং এর প্রধান ওষুধ হলো জীবনযাত্রা। WHO বলছে- সপ্তাহে অন্তত দেড়শো মিনিট Moderate Exercise যেমন দ্রুত হাঁটা প্রয়োজন। এর বৈজ্ঞানিক মাপ হলো ৫ MET, অর্থাৎ বসে থাকার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি শক্তি খরচ। এতে HDL বা ভালো কোলেস্টেরল বাড়ে। খাদ্যের ক্ষেত্রে ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েট শ্রেষ্ঠ প্রমাণিত। বেশি ফাইবার, বাদাম, সামুদ্রিক মাছে থাকা Omega-3, কম লবণ এবং ট্রান্স ফ্যাট বর্জন হৃদয়কে ভালো রাখে। বাঙালির পাতে পাবদা বা ইলিশের Omega-3 আছে, কিন্তু অতিরিক্ত তেলে ভাজা ও লবণ সেই উপকার নষ্ট করে দেয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো Golden Hour-এর ধারণা। হার্ট অ্যাটাকের প্রথম এক ঘণ্টাকে Golden Hour বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে গিয়ে ECG করে Primary Angioplasty বা Thrombolysis করা গেলে মৃত্যুর হার পঞ্চাশ শতাংশ কমে যায়।
About The Writer:
Sri Raja Debroy
Born on May 18th in Agartala, renowned writer, philosopher, and tabla player Raja Debroy writes across multiple genres and languages. A member of the London Poets Club, his published works include -
150 Years of Umakanta Academy,
Chhandapatan ,
Char Line Hoye Jak,
Electoral Reforms ,
Thoughtful Poems,
and Kalpana Ki Duniya ( Hindi)