দুই দিনের সপ্তমী আসলে তিথির দর্শন

রাজা দেবরায়

এবছরের দুর্গাপুজো ১৭-২১ অক্টোবর পর্যন্ত। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে সপ্তমী পুজো ১৮ অক্টোবর রবিবার। কিন্তু

ষষ্ঠী ১৬ অক্টোবর ভোর ৩:২৫ থেকে ১৭ অক্টোবর ভোর ৫:৫৪ পর্যন্ত। সপ্তমী ১৭ অক্টোবর ভোর ৫:৫৪ থেকে ১৮ অক্টোবর সকাল ৮:২৭ পর্যন্ত। আবার আরেক মতে, সপ্তমী তিথি শুরু হচ্ছে ১৭ অক্টোবর শনিবার সকাল ৯:৩১ থেকে ১৮ অক্টোবর সকাল ৭:৪৫ পর্যন্ত। পঞ্জিকা ভেদে সময় একটু নড়ে। তবে সূর্যোদয়ের নিয়মে ১৭ তারিখও সপ্তমী, আবার পুজোর নিয়মে ১৮ তারিখও সপ্তমী। সপ্তমী তিথি দুই সূর্যোদয়কে স্পর্শ করেছে।

আমরা ইংরেজি দিন বুঝি ২৪ ঘণ্টায়। তিথি বোঝে চাঁদ-সূর্যের কোণে। চাঁদ সূর্য থেকে ১২ ডিগ্রি সরলেই এক তিথি। তাই তিথি কখনো ১৯ ঘণ্টা, কখনো ২৬ ঘণ্টা। ইংরেজি দিনের ফ্রেমে তিথি তাই সবসময় ওভারল্যাপ করে। যেদিন সূর্যোদয়ের সময় যে তিথি থাকে, সেদিন সেই তিথি ধরা হয়। কিন্তু পুজোয় নবপত্রিকা প্রবেশের জন্য মধ্যাহ্নের সপ্তমী লাগে। তাই ১৮ তারিখই শাস্ত্রীয় সপ্তমী। তাহলে দুইদিন কেনো? এটাই হিন্দু সময়-দর্শনের মূল কথা। সময় রৈখিক নয়, চক্রাকার। ইংরেজি ক্যালেন্ডার বলে সময় কাটে, পঞ্জিকা বলে সময় জাগে। একই তিথি দুই সূর্যোদয়কে ছুঁয়ে গেলে তাকে অধিক দিবস নয়, স্পর্শ দিবস বলে। একে বলে বর্ধমান তিথি। দেবীর ক্ষেত্রে এর অর্থ- জাগরণ এক মুহূর্তে হয় না, জাগরণ একটি বিস্তার।

ষষ্ঠীতে বোধন, দেবী ঘুম থেকে ওঠেন। সপ্তমীতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা- নবপত্রিকা স্নান, নয়টি গাছে দেবীর নয় রূপকে জাগানো। কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান, ধান- এই নয়টি উদ্ভিদ আসলে কৃষির নয়টি প্রাণ। সপ্তমী তাই কৃষি-দর্শন। একদিনে নয় প্রাণকে জাগাতে সময় লাগে বলেই তিথি নিজেই দুই দিন ধরে থাকে। আজ আমরা বলছি- সপ্তমী দুইদিন হলো, পুজো বাড়লো। কিন্তু আসলে পুজো বাড়ছে না, আমাদের দেখার সময় বাড়ছে। তাই দুই দিনের সপ্তমী অশুভ নয়, এটি একটি দার্শনিক ইঙ্গিত- শক্তির প্রতিষ্ঠা একদিনের কাজ নয়। দুই দিনের সপ্তমী সেই প্রতিষ্ঠা বা বিস্তারের প্রতীক।