স্মৃতির গুদাম নয়, দর্শনের খনি
রাজা দেবরায়
১লা অক্টোবর, ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ International Day of Older Persons হিসেবে ঘোষণা করে। উদ্দেশ্য ছিলো বয়স্কদের প্রতি বৈষম্য ও অবহেলা নিয়ে সচেতনতা। কিন্তু আমাদের দর্শন এই দিনটিকে ভুলভাবে পড়ে। আমরা বর্ষীয়ান নাগরিককে দেখি করুণার পাত্র হিসেবে। \"আহা, ওঁদের দেখতে হবে।\" এই দেখাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দার্শনিক ভুল।
ভারতীয় দর্শনে দুটি শব্দ আছে- বয়স এবং বয়ঃজ্যেষ্ঠতা। বয়স হলো Biological Clock। বয়ঃজ্যেষ্ঠতা হলো Epistemic Authority- জ্ঞানের কর্তৃত্ব। একজন ৭০ বছরের মানুষ মানে ৭০ বছরের ডেটা নয়, তিনি ৭০ বছরের ফিল্টার। এই ফিল্টার দিয়ে তিনি গুজব আর সত্যকে আলাদা করতে পারেন, যা ২৫ বছরের তরুণ গুগল করেও পারে না।
আজকের সমস্যা হলো আমরা পরিবারকে \"নিউক্লিয়ার\" করেছি, কিন্তু সমাজকে \"নিউক্লিয়ার\" করতে পারিনি। এর ফলে বাবা-মা হয়ে গেছেন ফেসটাইমের অতিথি। আমরা ওল্ড-এজ হোম বানাচ্ছি, কিন্তু ভুলে যাচ্ছি, ওল্ড-এজ হোম সমাধান নয়, আমাদের ব্যর্থতার স্থাপত্য। বর্ষীয়ান নাগরিক মানে \"ছিন্ন শিকড়\" নয়। বর্ষীয়ান নাগরিক মানে \"গভীর শিকড়\"। যে গাছের শিকড় গভীর, সেই গাছই ঝড়ে টিকে থাকে। আজকের অস্থির সময়ে, যখন তরুণ প্রজন্ম Identity Crisis, Anxiety, Instant Justice-এ ভুগছে, তখন এই গভীর শিকড়ের খুব প্রয়োজন।
বয়স্কদের পরামর্শ সভায় ডাকুন। পাড়ার স্কুলের গভর্নিং বডিতে, পঞ্চায়েতের বিরোধ নিষ্পত্তিতে রাখুন। তাঁদের শুধু গল্প বলতে বলবেন না। তাঁদের দিয়ে গল্প লেখান, ইতিহাসের মৌখিক দলিল তৈরি করুন। \"আপনি ওষুধ খেয়েছেন?\" প্রশ্নের চেয়ে বড় প্রশ্ন- \"আপনি আজ কী ভাবলেন?\"
একটি সমাজ কতোটা সভ্য তা বোঝা যায় সে তাঁর শিশুদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে তা দিয়ে নয়, সে তাঁর বৃদ্ধদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে তা দিয়ে। শিশুকে আমরা ভবিষ্যৎ ভেবে ভালোবাসি, বৃদ্ধকে অতীত ভেবে করুণা করি। এই দর্শন বদলাতে হবে। বৃদ্ধও ভবিষ্যৎ, কারণ তাঁর অভিজ্ঞতাই আমাদের ভবিষ্যতের মানচিত্র।
Discussion